কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা জানুন

ড্রাগন ফল চাষ পদ্ধতি ও ড্রাগন ফল খাওয়ার উপকারিতা জানুনআসসালামু আলাইকুম, সুপ্রিয় পাঠক কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা জানুন ও আমের জাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা জানুন
কেননা এই আর্টিকেলে কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা ও আমের জাত সহ আমের সকল কিছু বর্ণনা করা হয়েছে। আপনার দেহের কোন কোন সমস্যায় আপনি আম খাবেন তার বিস্তারিত বলা হয়েছে এই আর্টিকেলে। পাশাপাশি আমের উদ্ভব হয়েছিল কিভাবে সে সম্পর্কেও আলোচনা করা আছে এই আর্টিকেলে।
সূচিপত্র: কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা জানুন

আম (বৈজ্ঞানিক নামঃ Mangifera Indica)

গ্রীষ্মমন্ডলীয় উদ্ভিদে জন্মানো এক সুস্বাদু ফল হলো আম। আমের রং সাধারণত কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ হয়ে থাকে। আম সাধারণত অ্যানাকার্ডিয়সি পরিবারের অন্তর্গত। ভারতীয় উপমহাদেশীয় ফল হলো আম। দক্ষিণ এশিয়ায় আমের আদি নিবাস। সেখান থেকেই গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে আমের বিস্তার হয় একটি সুস্বাদু ফল হিসেবে। এবং খুব দ্রুত সারা বিশ্বব্যাপী আমের প্রসার ঘটতে থাকে।

ধারণা করা হয় প্রায় সাড়ে ৬০০ বছরের পুরনো ফল হলো আম। বর্তমান বিশ্বে ফলের রাজা হিসেবে ধরা হয় আম কে। গবেষকদের মতে খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭ এর দিকে আলেকজান্ডার সিন্ধু উপত্যকায় সর্বপ্রথম আম দেখতে পান এবং সে আম তিনি প্রথম খান। পরবর্তী সময়ে খ্রিস্টপূর্ব ৬৩২ থেকে ৬৪৫ এর মধ্যে বাংলাদেশে আসে চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং এবং তিনি বাংলাদেশের আম কে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি দিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে আফ্রিকায় আম চাষ শুরু করা হয় ১৩৩১ খ্রিস্টাব্দে। তারপর কাল ক্রমেই সারা বিশ্বে আমের পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে খুব দ্রুত। ইংল্যান্ডে কাচের ঘরে আমের চাষ করা হয়েছিল ১৬৯০খ্রিস্টাব্দে। ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম আমের চারা রোপন করে বাগান তৈরি করা হয়েছিল ভারতের শাহবাগের দাড়ভাঙ্গা এলাকায়। এবং সে বাগান স্থাপন করেছিল মুঘল সম্রাট আকবর।

আমের বিভিন্ন নাম, বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ রয়েছে। বর্তমান সময়ে পুরো বিশ্বে ৩৫ প্রজাতির আম রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় কয়েকশ জাত রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে ভারত, হাইতি, পাকিস্তান ও ফিলিপাইন এসব দেশের জাতীয় ফল হলো আম। এবং বাংলাদেশের জাতীয় গাছ হলো আম গাছ। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে আমের চাষ বেশি হয়ে থাকে।

আমের জাত

বর্তমান সময়ে কয়েকশ জাত রয়েছে আমের। আমের চারা উৎপাদনের জন্য কলমের ব্যবহার করা হয়। বর্তমান সময়ে আমের রাজা হিসেবে ধরা হয় আলফোনশো নামের জাতকে। যা সর্বোচ্চ পরিমাণে রপ্তানি হয়ে থাকে। আমের উৎপাদন মূলত জলবায়ুর উপর নির্ভরশীল। বর্তমান বিশ্ববাজারে টমি অ্যাটকিনস জাতের আম বেশি আধিপত্য বিস্তার করেছে যা হ্যাডেন চারা থেকে উৎপন্ন হয়।

তবে আমাদের দেশে অনেক জাতের রয়েছে যারা বাংলাদেশে ব্যবসা সফল ফল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
  • ফজলি
  • সুরমা ফজলি
  • আশ্বিনা
  • খিসরাপাত
  • হাড়িভাঙ্গা
  • আলফানসো
  • ল্যাংড়া
  • গোপালভোগ
  • আম্রপালি
  • হিমসাগর
  • বাতাসা
  • বোম্বাই
  • বৈশাখী
  • মালদা
  • হিমসাগর (রাজশাহী)
  • কালুয়া (নাটোর)
  • গুটি ল্যাংড়া
  • পালসার
  • আমিনা
  • পূজারী ভোগ
  • দিলশাদ
  • অস্ট্রেলিয়ান আম
বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেননা চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে মানবদেহের নানান সমস্যা সমাধান করার জন্য আমের ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন। কেননা আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম সহ অন্যান্য উপাদান রয়েছে যা মানব দেহ কে সুস্থ রাখার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা জানুন

আম অত্যন্ত সুস্বাদু একটা ফল। কাঁচা এবং পাকা উভয় অবস্থাতেই আম খাওয়া যায়। পাশাপাশি উভয় অবস্থাতেই আমের ব্যবহার হয়ে থাকে বিভিন্ন কাজে। তবে কাঁচা আম খাওয়ার কয়েকটি উপকারিতা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলোঃ
  • অতিরিক্ত ওজন কমাতে
যারা নিজেদের দেহের বাড়তি ওজন কমাতে চান তারা নিয়মিত কাঁচা আম খেতে পারেন। কেননা পাকা আমি প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে কিন্তু কাঁচা আমে কোন প্রকার চিনি থাকে না যার ফলে দেহের অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ করতে সহায়তা করে। এবং দেহের ওজন খুব দ্রুত কমে যায়।
  • অম্লতা দূর করার জন্য কাঁচা আম খান
যাদের বুক জ্বালাপোড়া বা অম্লতার সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত কাঁচা আম খেতে পারেন। কেননা কাঁচা আম খাওয়ার ফলে খুব দ্রুত অম্লতা দূর করা সম্ভব।
  • খাদ্য হজম করতে
কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে গ্যালিক অ্যাসিড থাকে। যার ফলে কাঁচা আম খাওয়ার জন্য হজমের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করে খুব দ্রুত খাদ্য হজম হতে সহায়তা করে।
  • ত্বকের ভালো রাখতে
কাঁচা আমের প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা ত্বকের সৌন্দর্য উজ্জ্বল করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি কাঁচা আম খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত চর্বি দূর হয় এবং শরীরের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া সহজে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে দেহ রোগ জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে না যার কারণে দেহ ও ত্বক সুন্দর ও মসৃণ থাকে।
  • শরীরে লবণের ঘাটতি পূরণ করতে
গরমের সময় প্রত্যেকটা মানুষের শরীর থেকে ঘাম আকারে সোডিয়াম ক্লোরাইড ও লৌহ বের হয়ে যায়। কাঁচা আম নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরের সেই সব উপাদানের ঘাটি পূরণ হয়। যার ফলে দেহে লবণের ঘাট পড়ে না যাতে করে শরীর সুস্থ থাকে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য হতে মুক্তি পেতে
দেহে খাদ্য হজম করতে সহায়তা করে থাকে কাঁচা আম। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় এবং অন্ত্রকে পরিষ্কার রাখে। যার ফলে খাবার খাওয়ার পর খুব দ্রুত খাবার হজম করতে সহায়তা করে। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তির জন্য নিয়মিত কাঁচা আম খান।
  • শরীরের ঘামাচি দূর করতে
গরমের সময় ঘামাচি অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায় প্রত্যেকটা মানুষের জন্য। আর সেই ঘামাচি দূর করে থাকে কাঁচা আম। কাঁচা আমের কিছু বিশেষ উপাদান রয়েছে যা সানষ্ট্রোক হতে বাধা প্রদান করে ফলে শরীরে ঘামাচি হয় না।
  • চোখের সমস্যা দূর করতে
কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে লুটেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যার চোখের রেটিনার স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। পাশাপাশি চোখ ভালো রাখার জন্য যেসব ভিটামিন প্রয়োজন সে সব ভিটামিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে কাঁচা আমে।
  • মুখের সমস্যা দূর করতে
কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। যার ফলে মুখের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে। স্কার্ভি ও মাড়ি থেকে রক্তপাতের সমস্যা দূর করার জন্য কাঁচা আম নিয়মিত খেতে পারেন।
  • দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে
কাঁচা আমে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান থাকায়স শ্বেত রক্ত কণিকার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও দেহে রোগ জীবাণু প্রবেশে বাধা দেয় যার ফলে কোন রোগ জীবাণু শরীরে ঢুকতে পারে না এবং শরীর সুস্থ ও স্বাবলম্বী থাকে।

কাঁচা আম বেশি খাওয়ার অপকারিতা

প্রতিটা খাবারের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। যার কারণে আপনি যে খাবার গ্রহণ করুন না কেন তা পরিমাণ মতো খাবেন তাছাড়া দেহের উপকারের চাইতে অপকার বেশি হবে। কেননা অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে খাদ্যের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেহের সাথে নাও মিলতে পারে। যার ফলে আপনার দেহের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে। তাই আপনার সমস্যা অনুযায়ী পরিমাণ মতো এবং নিয়মিত কাঁচা আম খান তাহলে অবশ্যই খুব অল্প সময়ের মধ্যে আপনার সমস্যা থেকে সমাধান পেয়ে যাবেন।

শেষ কথা

সুপ্রিয় পাঠক, আর.বি.আর ব্লগ এই আর্টিকেলে কাঁচা আম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনাকে জানিয়েছে। আর্টিকেলটি পড়ে ভালো লেগে থাকলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। যেকোনো শিক্ষনীয় বিষয় জানতে আর.বি.আর ব্লগের সাথেই থাকুন। আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url