সবজিতে কোন ধরনের খাদ্য উপাদান থাকে

 আসসালামু আলাইকুম, সুপ্রিয় পাঠক সবজিতে কোন ধরনের খাদ্য উপাদান থাকে ও শাক সবজির পুষ্টিমান সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।সবজিতে কোন ধরনের খাদ্য উপাদান থাকে তা জানুনআজকের আর্টিকেলে আমরা জানানোর চেষ্টা করেছি যে শরীর সুস্থ রাখার জন্যে আমাদের কি পরিমানে শাক সবজি খেতে হবে, কোন মৌসুমে কি শাক সবজি পাওয়া যায় ও কোন সবজিতে কি পরিমানে খাদ্য উপাদান থাকে।

ভূমিকা

মানব দেহ সুস্থ রাখার জন্য খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তবে কোন ধরনের খাবারে কি উপাদান আছে তা জানা অতি জরুরি। কেননা খাবারে যদি পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্য উপয়াদান না থাকে তবে তা দেহের জন্য মারাত্মক সমস্যা দেখা দিবে। তাই এই আর্টিকেল আমরা জানানোর চেষ্টা করেছি যে কোন শাকসবজিতে কি পরিমাণে খাদ্য উপাদান রয়েছে ও কোন শাকসবজি কোন মৌসুমে পাওয়া যায় ও কোন শাকসবজি দেহের জন্য বেশি উপকারী।

শাক সবজির পুষ্টিমান

দেহকে সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম রাখার জন্য নিয়মিত নিরাপদ ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা অতি প্রয়োজন। শাকসবজি খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হয়ে থাকে। শাকসবজিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ ও এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাই দেহ সুস্থ রাখার জন্য আমাদের নিয়মিত শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন, তবে আমাদের দেশে রবি মৌসুম ও শীত মৌসুমে শাকসবজি বেশি চাষ করা হয় যা দিয়ে দেশে প্রায় ৬০ শতাংশ সবজির চাহিদা মেটানো হয়।

সবজিতে কোন ধরনের খাদ্য উপাদান থাকে

মানুষ নিজের দেহে চাহিদা মিটানোর জন্য শাকসবজি খেয়ে থাকে। তবে আপনি সবজি কাঁচা বা রান্না করে খেতে পারেন। সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও ফাইবার রয়েছে যা দেহের জন্য খুব উপকারী। তবে সবজিতে চর্বি ও শর্করা খুব কম পরিমাণে থাকে যার ফলে দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় ও খাবার হজম হতে সাহায্য করে।

বর্তমান বিশ্বে প্রায় সব দেশের সরকার শাকসবজি চাষ করার জন্য নাগরিকদের উৎসাহিত করে থাকে বিভিন্ন উপায়ে।

শীতকালীন শাক সবজি

শাকসবজি ও ফলমূল হলো খাদ্য উপাদানের মধ্যে ভিটামিন ও মিনারেলসের অন্যতম উৎস। শাকসবজি ও ফলমূলে ভিটামিন ও মিনারেল বেশি পরিমাণে থাকায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বিগুণ বেড়ে যায় এবং শরীরকে খাদ্যের শর্করা আমিষ ও চর্বির ব্যবহার করতে সাহায্য করে। মানব দেহ রক্ষায় শাক সবজির গুরুত্ব অপরিসীম।


তবে আমাদের দেশে বর্তমানে বারোমাসি শাক-সবজি কমবেশি পাওয়া যায় তবে শীত মৌসুমে তুলনামূলক একটু বেশি শাক সবজির দেখা মেলে কেননা ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে শীতকালে শাক সবজির ফলন বেশি হয় তার ফলে কৃষক লাভবান হয় সেজন্যই শীতকালে শাকসবজি বেশি চাষ করা হয়ে থাকে।


তবে শীতকালে যেসব শাকসবজি বেশি পাওয়া যায় তাতে তুলনামূলক পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন একটু বেশি পাওয়া যায় যা মানব দেহ সুস্থ সবল রাখার জন্য অনেক ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে শীতকালীন শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান থাকে যা ত্বকের বার্ধক্য রোদে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে ও ত্বকের সজীবতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।


শাকসবজিতে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থতা দান করে। শরীরের অস্থিক্ষয় রোধ ও প্লাটিলেট বা রক্তকণিকা গঠনে শীতকালীন শাক সবজির ভূমিকা অপরিসীম।

তবে আমাদের দেশে শীতকালীন যেসব সবজি বেশি পাওয়া যায় তার মধ্যে ৬ টি আলোচনা করা হলো
  • ফুলকপি
শীতকালে যতগুলো সবজি পাওয়া যায় তার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সবজি হল ফুলকপি। কেননা সবুজ পাতার মাঝখানে ধবধবে সাদা ফুলের মত ফুটে থাকা একটা সবজির চাষ অনেক আগ থেকে হয় আমাদের এই বাংলাদেশে, তবে ফুলকপির আদি নিবাস বলা হয় ইতালিকে। মুঘল আমলে সর্ব প্রথম উপমহাদেশে ফুলকপির আগমন ঘটেছিল।

প্রোটিনের দিক দিয়ে সবচাইতে এগিয়ে সবজিটি হলো ফুলকপি। তাছাড়া ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফসফরাস, খনিজ, ফাইবার, আইরন ও ক্যালসিয়াম যা আমাদের শরীরের রক্ত তৈরি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষ করে গর্ভবতী মা, বাড়ন্ত শিশু ও যাদের কায়িক পরিশ্রম বেশি হয় তাদের জন্য ফুলকপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সবজি।

ফুলকপিতে কোন প্রকার ফ্যাড বা চর্বি পাওয়া যাবে না। শীতকালে যেসব সমস্যা বেশি দেখা দেয় যেমন সর্দি-কাশি জ্বর খুব অল্পতেই সেরে যায় ফুলকপি খাওয়ার ফলে। ফুলকপিতে প্রচুর পরিমাণে সালফোরাফোন রয়েছে যা মানুষের রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ ও ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাছাড়াও ফুলকপি খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এছাড়া মূত্রথলি, স্তন ও ডিম্বাশয় ক্যান্সার হওয়ার প্রতিরোধ গড়ে তোলে ফুলকপি। ফুলকপিতে ওমেগা নামের ৩ টি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং তার ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যসহ পেটের সকল সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। ওজন বেশি হলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে ফুলকপি অনেকটা সাহায্য করে। এই জন্য মানুষ শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপি সবচাইতে বেশি পছন্দ করে থাকে।
  • বাঁধাকপি
শীত মৌসুমের আরেকটি সবজি হল বাঁধাকপি। বাঁধাকপির পাতাগুলো মানুষ সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে। শীত যত বেশি পড়ে পাতার বাঁধন গুলো আরো শক্ত হয় এবং স্বাদ আরো বেড়ে যায়। বাঁধাকপির আদি নিবাস হলো দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপে। ১৪ শতকের দিকে প্রথমবারের মতো বাঁধাকপি আবির্ভূত হয় ইংল্যান্ডে, তারপর খুব অল্প সময়ের মধ্যে উপমহাদেশে বাঁধাকপির আগমন ঘটে।

বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকার কারণে স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ হয় খুব অল্প সময়ে। বাঁধাকপি মানুষ বিভিন্নভাবে খেয়ে থাকে যেমন বড়া, রোল, ভাজি, সালাত। বাঁধাকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, আইরন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট। তাছাড়া বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে পানি পাওয়া যায়।

মানবদেহের হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে এই সবজি। পেপটিক আলসার ও পাকস্থলীর আলসার দূর হয় বাঁধাকপি খাওয়ার ফলে। বর্তমানে বাংলাদেশে শীতকালীন সবজি হিসেবে বাঁধাকপির ব্যাপক চাষ হয় ও বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।
  • পালংশাক
শীতকালের আরও একটি জনপ্রিয় সবজি হলো পালং শাক। বিশেষ করে শিং মাছ আর পালং শাক একসাথে খেতে অনেক মজা লাগে। ওজন কমাতে খুব দারুণ কাজ করে এই পালংশাক। পেটের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার প্রথম খাবার হল পালংশাক। পালংশাকে কিলো ক্যালরির পরিমাণ অনেক কম থাকে যার ফলে মানুষের ওজন দ্রুত কমে যায়।

পালংশাক মূলত বিটা ক্যারোটিন এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সবজি যা ক্যান্সার প্রবণতা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বিশেষ করে চোখ ভালো রাখার জন্য পালংশাক খুবই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। তা ছাড়া ম্যাকুলারের সমস্যা দূর হয় পালংশাক খেলে। হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে পালংশাক খাওয়ার ফলে, যার জন্য হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অনেক কম থাকে।
  • গাজর
সুপার ফুড নামে ডাকা হয় গাজরকে। কেননা গাজর অত্যন্ত সুস্বাদু পুষ্টিকর ও ফাইবার সমৃদ্ধ শীতকালীন একটি সবজি। তবে বর্তমানে সারা বছর গাজর পাওয়া যায়। সালাদ, তরকারি, ডেজার্ট হিসেবে গাজরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গাজরে প্রচুর পরিমাণ বিটা ক্যারোটিন আছে যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে ও দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

তাছাড়া গাজোরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফাইবার, ফসফরাস ও প্রোটিন রয়েছে, যা থেকে শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্তের ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়। তার পাশাপাশি কাঁটা ছেড়ার ইনফেকশন কমে ও হৃদরোগ প্রতিরোধ করে দেহের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে,চুল পড়া রোধ করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে।

তার পাশাপাশি একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন যে পরিমাণে ভিটামিন এ এর প্রয়োজন হয় তা পেতে পারেন মাত্র ২ টা গাজর খাওয়ার ফলে। গাজরের আদি নিবাস হয় দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপে। বর্তমান বিশ্বে চিনে গাজরের চাষ সবচেয়ে বেশি হয়। আবার জাত ভেদে কমলা রঙ ছাড়াও হলুদ সাদা ও লাল রঙের গাজর দেখতে পাওয়া যায়।
  • টমেটো
শীতকালীন সবজির মধ্যে একটি জনপ্রিয় সবজি হলুদ টমেটো। টমেটোকে মূলত আমরা সবজি হিসেবেই চিনি। তবে উদ্ভিদবিজ্ঞান টমেটোকে ফল হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। টমেটো প্রথম চাষ হয় আমেরিকার মেক্সিকোর অঞ্চলে। তারপর সেখান থেকে ফিলিপাইনের বিস্তার ঘটে, এর দীর্ঘ সময় পরে পুরো এশিয়া মহাদেশের টমেটো ছড়িয়ে পড়ে।

টমেটো কাঁচা অবস্থায় সবুজ রং ধারণ করে এবং পাকার পরে তা লাল রঙে পরিণত হয়। কাঁচা এবং রান্না করে টমেটো খাওয়া যায় তবে পাকার পর টমেটো রঙ যেমন আকর্ষণীয় হয় এবং এর গুনাগুন ও বেশি হয়। টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে। এছাড়া টমেটোতে প্রচুর পানি সহ ফাইবার ও আয়রন থাকে।

টমেটো শরীরে চর্মরোগ দূর করতে সাহায্য করে ও রক্ত পরিষ্কার রাখে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ও রক্তস্বল্পতা দূর করা সহ ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে অবদান রাখে। বিশেষ করে সালাদ, সস ও স্যুপ হিসেবে টমেটো বেশি ব্যবহার করা হয়। যার জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রচুর টমেটোর চাষ করা হয়, এবং দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়।
  • শিম
শিম অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পরিচিত একটি সবজি। শীতকাল ছাড়াও বছরের অন্য সময়ও শিম পাওয়া যায়। বাংলাদেশের অনেক জায়গায় শিম কে ছই বলা হয়। বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলের শিম পাওয়া যায়, তবে শিমের অনেকটা জাত রয়েছে। শিম শুধু স্বাদের জন্য নয় তার অনেকটা উপকারও রয়েছে, শিম খাওয়ার ফলে শরীরের অনেক রোগ নিরাময় করা সম্ভব হয়, কেননা শিমের দানা অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার।

শিমে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ও ভিটামিন কে থাকে তাছাড়া ফাইবার প্রোটিন ও আমিষ রয়েছে। সিম খাওয়ার ফলে কোলন ক্যান্সার প্রতিকার করা সম্ভব। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন তারা নিয়মিত শিম খেতে পারেন। তাছাড়া নিয়মিত শিম খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। মানুষের শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে সিম খাওয়া প্রয়োজন।

বর্তমানে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে শিমের চাষ করা হয় যা দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে সাহায্য করে।

বারোমাসি শাক সবজি

আমাদের এই ষড়ঋতুর বাংলাদেশে অনেক শাকসবজি আছে যা বারোমাসি পাওয়া যায়। কেননা আবহাওয়া গত কারণে শীতকাল গ্রীষ্মকাল সব মৌসুমী সেই সব শাকসবজির চাষ অনেক ভালো হয়, তার ফলে সেই সব শাকসবজি সব সময় বাজারজাত হয়। সেইসব শাকসবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আলু, মিষ্টি কুমড়া, বিভিন্ন জাতের পেঁপে, ভিন্ন ভিন্ন জাতের কলা সহ নানামুখী শাকসবজি যে আমরা সারা বছর খেয়ে থাকি, তার ফল আমাদের দেহ সুস্থ থাকে।

দেহ সুস্থ রাখার জন্য মৌসুম ভেদে সব রকমের শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন কেননা শাকসবজি ছাড়া দেহের সৌন্দর্য, ত্বকের উষ্ণতা, শরীরের শক্তি কখনোই ধরে রাখা সম্ভব না তাই সব রকমের সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য সব রকমের ও সব মৌসুমের শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাছাড়া শরীরের নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বর্তমান বিশ্বে শাকসবজি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখার জন্য বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির আবিষ্কার করা হয়েছে সেই সব যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে শাকসবজি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব। যা বারো মাস মানুষের চাহিদা মেটাতে পারে ও যা বারোমাস বাজারে পাওয়া যায় সেইসব শাকসবজিকে বারোমাসি শাকসবজি বলা হয়ে থাকে।

শাকসবজি খাওয়ার উপকারিতা

যে কোন খাবার হজম করতে সবুজ শাকসবজি অনেক সাহায্য করে। কেননা তাতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, শর্করা থাকে। এছাড়াও অনেক উপাদান পাওয়া যায় সবুজ শাকসবজিতে যা দেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী, যেমন দেহের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সবজি খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাছাড়া সবজি খাওয়ার ফলে রাতকানা, মাথার চুল পড়া, চোখের সমস্যা দূর হয়।


খাবারে অরুচি দূর করার প্রধান ঔষধ হল শাকসবজি। এছাড়া ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, সালফার, ফসফরাস, স্নেহ, শর্করা সবকিছু পাওয়া যায় শাকসবজির মধ্যে। তাই দেহ সতেজ, সুন্দর ও সবল রাখতে শাকসবজি খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। তবে খাওয়ার আগে তা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে যাতে করে কোন প্রকার কীটনাশক বা স্যার ব্যবহার করা থাকলে তা যেন দেহের ভিতর প্রবেশ করতে না পারে।

শাকসবজি খাওয়ার অপকারিতা

প্রত্যেকটা খাবারের সাইড ইফেক্ট রয়েছে। তাই কোন খাবার যতই সুস্বাদু হোক না কেন তা পরিমাণের চেয়ে কখনোই বেশি খাওয়া উচিত না। কেননা বেশি পরিমাণে খাওয়ার ফলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশি হবে। তাই যে কোন খাবার পরিমাণ মতো খেতে হবে প্রয়োজন হলে মাঝে একটু সময় বিরতি বা ফাঁকা রেখে পরবর্তী সময়ে আবার সেই খাবার খাওয়া যাবে তবে তা পরিমাণ মতো। কেননা কোন খাবার পরিমাণের চেয়ে বেশি খেলে বদহজম হতে পারে।

এতে করে শরীরের শক্তি কমে যাওয়া সহ দুর্বল ভাব মুখে রুচি কমে আসা কোন কাজ ঠিকমতো করতে না পারা মাথা ঘুরানো সহ নানা সমস্যা দেখা দিবে। তাই শাকসবজি সহ যেকোনো খাবার পরিমাণ মতো খেতে হবে তবে তা দেহের ভিতরে প্রবেশ করে ঠিকমতো কাজ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা সহ শরীরের শক্তি যোগাবে যাতে করে আপনি যে কোন কাজ খুব সুন্দর ভাবে শেষ করতে পারবেন এবং আপনার শরীরে কোনরকম সমস্যা দেখা দিবে না।

লেখকের মন্তব্য

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানানোর চেষ্টা করেছি যে, কোন মৌসুমে কোন শাক সবজি পাওয়া যায় ও কোন শাক সবজি খাওয়া দেহের জন্য বেশি উপকারি। তা ছাড়া কোন সবজি তে খাদ্য উপাদান বেশি থাকে তা জানার জন্য আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। তার পাশাপাশি এটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।

এ ধরনের শিক্ষণীয় যে কোন বিষয় জানতে আমাদের এই ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন। আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url