গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কোথায় কোথায় হয় - গ্যাস্ট্রিকের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম

আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা - আমাশয় রোগের ঔষধ সম্পর্কে জানুনসুপ্রিয় পাঠক গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কোথায় কোথায় হয় ও গ্যাস্ট্রিকের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম এবং গ্যাস্ট্রিক দূর করার খাবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কোথায় কোথায় হয় - গ্যাস্ট্রিকের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম
কেননা এই আর্টিকেলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা থেকে আপনি কিভাবে মুক্তি পাবেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি কোন কোন খাবার গ্রহণ করলে আপনার শরীর থেকে চিরতরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যাবে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সূচিপত্রঃ গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কোথায় কোথায় হয় - গ্যাস্ট্রিকের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম

উপস্থাপনা

সুপ্রিয় পাঠক, আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করেছি যে, আপনার শরীরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে কোন কোন উপায় অবলম্বন করে আপনি ঘরোয়া পদ্ধতিতে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে পারেন সেই সম্পর্কে। পাশাপাশি আলোচনা করা হয়েছে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে মেথি খাওয়ার নিয়ম ও মেথির গুণাবলী সম্পর্কে। তাছাড়াও আলোচনা করা হয়েছে কোন কোন খাবার গ্রহণ করলে আপনি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে নিস্তার পাবেন সেই সম্পর্কে।

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কোথায় কোথায় হয়

বর্তমান সময়ে প্রায় সকল বয়সের মানুষের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করার ফলে এবং নেশা জাতীয় কোন দ্রব্য সেবন করার ফলে অথবা কর্মব্যস্ততার কারণে শরীর বা স্বাস্থ্যের খেয়াল না রাখার কারণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে। বিভিন্ন সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা অনুভূত হওয়ার ফলে আমরা ঠিকমতো বুঝতে পারি না যে এটা গ্যাস্টিকের সমস্যা না অন্য কোন সমস্যার কারণে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে কারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে দেহের যে কোন অংশে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয় পাকস্থলীতে এসিডের পরিমাণ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে। গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সৃষ্টি হয় অধিক পরিমাণ মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার ফলে পাশাপাশি রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত ঝাল খাওয়ার ফলে। সময়মতো গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান না করলে বা গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে না রাখলে পাকস্থলীতে ঘা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা মানুষের প্রাণহানি ঘটাতে পারে যে কোন মুহূর্তে।
অতিরিক্ত মসলা জাতীয় এবং অধিক ঝাল অথবা তেল জাতীয় খাদ্য হজম করার জন্য পাকস্থলীতে অধিক পরিমাণে এসিডের প্রয়োজন হয়, যার ফলে পাকস্থলীতে প্রচুর পরিমাণে হাইড্রোজেন নিঃসরিত হওয়ার ফলে ক্লোরিনের সাথে মিশে গিয়ে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সৃষ্টি করে এবং সেখান থেকেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয় মানুষের শরীরে। কারো শরীরে গ্যাস্টিকের সমস্যা হলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর সেই জায়গাগুলো হলোঃ
  • পেট ফুলে ওঠা ও পেটের ওপরের অংশে চিনচিন ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • বুকে এবং বগলের নিচে কাঠির ভেতরে ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • খাবার গ্রহণ করার কিছুক্ষণ পরে পেট ফুলে ওঠা ও ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • দীর্ঘ সময় ধরে কোন খাবার গ্রহণ না করলে পেটে গ্যাস্টিকের সমস্যা হয়ে বুক এবং পিঠে ব্যথা অনুভূত হয়
  • বুকের মাঝখানে ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ফলে অনেকের মাথা ব্যথা হয়ে থাকে
  • তলপেটে ব্যথা অনুভূত হয়
  • মাজায় ব্যথা অনুভূত হয়
  • ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা অনুভূত হয়
  • অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে একেক জন মানুষের একেক জায়গায় ব্যথা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

গ্যাস্ট্রিক দূর করার খাবার

অতিরিক্ত পরিমাণে মসলাযুক্ত খাবার ও তেল জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দেয়। অনেক মানুষ আছে যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার জন্য বিভিন্ন মেডিসিন গ্রহণ করে থাকে। যারা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার কারণে মেডিসিন গ্রহণ করে থাকেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই যে গ্যাস্ট্রিকের মেডিসিনের মধ্যে অনেক রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে যা আপনার দেহকে পর্যায়ক্রমে মারাত্মক সমস্যার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ঘরোয়া উপায় আপনি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে সমাধান পেতে পারেন নিচে উল্লেখিত খাবার গুলো গ্রহণের মাধ্যম। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার জন্য যেসব খাদ্য আপনি গ্রহণ করতে পারেন তা হলো,
  • গরুর খাঁটি দুধ
গরুর খাঁটি দুধ অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য যা আমাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব দূর করা সহ শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের কাজ করে থাকে। আপনি যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে চান তাহলে প্রথমে দুধ গরম করে সেই দুধ ঠান্ডা করে তারপর খেতে পারেন তবে খুব দ্রুত গ্যাস্ট্রিতে সমস্যা থেকে নিস্তার পেয়ে যাবেন।
  • টক দই
মানুষের দেহের হজম শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য টক দই অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে। কেননা মানুষ খাদ্য গ্রহণের পর সেই খাদ্য যতো দ্রুত হজম হয়ে যাবে ততো শরীরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে যাবে আর খাবার দ্রুত হজম করতে টক দই অত্যন্ত উপকারী উপাদান।
  • আমড়া
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার জন্য নিয়মিত আমড়া খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন কেননা খাদ্য হজম করতে আমড়া অত্যন্ত উপকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে। আমড়া খাওয়ার জন্য প্রথমে আমড়া ভালোভাবে কেটে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে তারপরে শুকনো আমড়া চিবিয়ে খাওয়ার ফলে বদহজম ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়ে যায়।
  • পাকা পেঁপে
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যে গ্যাস্টিক হওয়ার প্রধান সমস্যা হলো খাবার দ্রুত হজম না হওয়া। আর পাকা পেঁপে খুব দ্রুত খাবার হজম করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তার ফলে অটোমেটিক ভাবেই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে আসে। যারা দীর্ঘদিন যাবত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ে ভুগছেন তারা নিয়মিত পাকা পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।
  • শসা
মানুষের দেহকে সুস্থ রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা প্রয়োজন কেননা অনেক সময় পানির ঘাটতির কারণে পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত শসা খাওয়ার ফলে শরীরে অনেক অংশে পানির ঘাটতির পরিমান কমে আসে কেননা শসাতে ৯৭% পানি থাকে। নিয়মিত শসা খাওয়ার ফলে পেট অনেক শীতল থাকে যার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেকটা কমে আসে।
  • কমলা লেবু
আমরা সবাই জানি যে ভিটামিন এবং আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করলে তা পাকস্থলীতে গিয়ে অন্যান্য খাবার হজম করতে অনেক সাহায্য করে থাকে। পাশাপাশি পাকস্থলীর অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করে পাকস্থলী পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। আর কমলা লেবু হলো ভিটামিন যুক্ত একটি ফল যা গ্রহণের ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমে আসে। পাশাপাশি নিয়মিত কমলা লেবু গ্রহণের ফলে পেটের খাদ্য হজমের সাথে সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে থাকে।
  • কলা
পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে কলা অত্যন্ত কার্যকরী একটা ফল। কেননা কলাতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে থাকে। তাই পেট পরিষ্কার রাখার জন্য এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করে শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন নিয়মিত ২-৩ কলা খান।
  • জিরা
যেসব মানুষের নিয়মিত কোন কারণ ছাড়াই জ্বর, বমি বমি ভাব এবং পায়খানা জনিত সমস্যা হয় তারা নিয়মিত জিরা খেতে পারেন। অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস যাদের রয়েছে তারা খুব দ্রুত খাবার হজম করতে জিরা খেতে পারেন। কারণ খুব দ্রুত খাবার হজম হয়ে গেলে গ্যাস্টিকের কোন সমস্যা দেখা দিবে না। পাশাপাশি জিরাতে এমন কিছু বিশেষ উপাদান রয়েছে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কে শরীর থেকে নির্গমন করতে সাহায্য করে যার ফলে দেহ সুস্থ থাকে।
  • আদা
আদার রস গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে কেননা আদা অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি সমৃদ্ধ একটি খাদ্য। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার জন্য আদার রস ছাড়াও আদা কুচি কুচি করে কেটে চিবিয়ে খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করা সম্ভব।
  • দারচিনি
খাদ্য হজমের সমস্যা হলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর খাদ্য হজম করতে দারচিনি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তাই গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান পাওয়ার জন্য নিয়মিত দারচিনির গুঁড়ো পানিতে ফুটিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • লবঙ্গ
প্রতিদিন ৩-৪ টি লবঙ্গ চুষে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন তাতে করে বুক জ্বালাপোড়া, বমি বমি ভাব হওয়া এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করা সহ গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি খাবারের প্রতি যাদের অরুচি রয়েছে তারা নিয়মিত লবঙ্গ খেতে পারেন কেননা লবঙ্গ খাওয়ার ফলে খাবারের প্রতি রুচি অটোমেটিক বেড়ে যাবে।
  • এলাচ
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও পেটের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য এলাচের গুঁড়ো প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • সরিষা
পেটে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করার জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় সরিষা যোগ করতে পারেন। কেননা নিয়মিত সরিষা খাওয়ার ফলে পেটের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধান হওয়ার পাশাপাশি পায়খানা স্বাভাবিক ভাবে হয়।
  • পুদিনা পাতা
যাদের বমি বমি ভাব হয় এবং খাবারের প্রতি অরুচি রয়েছে তারা নিয়মিত ৪-৫ পুদিনা পাতা এক কাপ গরম পানির সাথে ফুটিয়ে খেতে পারেন। তাতে করে খাবারের প্রতি রুচি আসবে বমি বমি ভাব দূর হবে এবং খাদ্য হজম করতে সাহায্য করবে যাতে করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সৃষ্টি না হয়।
  • ধনে পাতা
যারা বাইরের তেলযুক্ত খাবার বেশি খেয়ে থাকেন তারা নিয়মিতভাবে ধনে পাতা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কেননা ধনে পাতা তেল জাতীয় খাবার হজম করতে সাহায্য করে যাতে করে কখনো গ্যাস্টিকের সৃষ্টি হয় না। পাশাপাশি পেট পরিষ্কার করতেও ধনেপাতা সাহায্য করে থাকে।
  • মৌরির পানি
মৌরির পানি প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ২-৩ দিন সেবন করুন তাতে করে গ্যাস্টিকের সমস্যা কমে আসবে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। কেননা মৌরির পানি একটি ভেষজ উপাদান যা গ্যাস্ট্রিক দূর করতে সাহায্য করে।

গ্যাস্ট্রিকের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম

বর্তমান সময়ে সকল বয়সের মানুষেরা গ্যাস্ট্রিক রোগের ভুক্তভোগী। মানুষের শরীরে গ্যাস্টিকের সমস্যা দেখা দেওয়ার অন্যতম কারণ হলো ভেজাল খাবার, ফরমালিন মেশানো খাবার এবং কীটনাশক মেশানো খাবার। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে গ্যাস্টিকের সমস্যা থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্য গ্যাস্টিকের সমস্যাকে কেউ হালকা ভাবে নিবেন না। ঘরোয়া নানান উপায়ে গ্যাস্টিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
নিজের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রতিদিন মেথি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন কেননা মেথিকে বিভিন্ন রোগের মহা ঔষধ বলা হয়ে থাকে। গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণের জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হলো, এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ সমপরিমাণ মেথি ভিজিয়ে রাখার ১০-১৫ মিনিট পর সেটি পান করুন।

মেথি পান করতে সমস্যা হলে চিনি, মধু অথবা মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য মিথির সাথে মিশিয়ে পান করুন। আপনি চাইলে লেবুর রস অথবা আখের রসের সাথে মেথি মিশিয়ে খেতে পারেন। আবার রান্না করা খাবারের সাথে মিশিয়ে মেথি খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। পাশাপাশি শুধু মেথি প্রতিদিন রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে খালি পেটে খেলে গ্যাস্টিকের সমস্যা চিরতরে দূর করা সম্ভব।

মেথির গুণাবলী
  • বুকের জ্বালাপোড়া কমায়
  • পেটের কৃমি দূর করে
  • মেয়েদের পিরিয়ডের ব্যথা দূর হয়
  • কিডনির সমস্যা দূর হয়
  • মেথি খাওয়ার ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে
  • শরীরে যে কোন ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে
  • শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের নিয়ন্ত্রণ করে
  • দেহের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
  • খাদ্য হজম করতে সাহায্য করে
  • মাথার চুল পড়া রোধ করে
  • দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে
  • মায়েদের দুধ বৃদ্ধি করে
  • ত্বক উজ্জ্বল করে
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
  • দেহে শক্তি উৎপাদন করতে সাহায্য করে

গ্যাস্ট্রিক দূর করার ঔষধ

যাদের অতিরিক্ত পরিমাণে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা ঘরোয়া উপায়ে গ্যাস্ট্রিক দূর করতে না পারলে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে গ্যাস্ট্রিক দূর করার জন্য প্রাথমিক অবস্থায় আপনি যেসব ওষুধ সেবন করতে পারেন সেগুলো হলো..
  • সেকলো
  • সার্জেল
  • ওমিপ্রাজল
  • ইসিম্রোপাজল
  • রেনিটিডিন
  • প্যানটোনিক্স
  • লোসেকটিল

গ্যাস্ট্রিক থেকে বাঁচতে সতর্কতা

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সৃষ্টি হয় অতিরিক্ত মসলাযুক্ত এবং তেল যুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে। সেই জন্য গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে মসলাযুক্ত খাবার ও তেল যুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি ফরমালিন মিশানো কোন সবজি বা ফল খাওয়ার পূর্বে ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। কীটনাশক দেওয়া কোন সবজি খাওয়া যাবেনা।

ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিনযুক্ত এবং আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে যাতে করে পেটে কোন রকম কোষ্ঠকাঠিন্য বাসা বাঁধতে না পারে। পাশাপাশি সুষুম খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হবে এবং পরিমাণ মতো ও নিয়মিত সেইসব গ্রহণ করতে হবে।

শেষ কথা

সুপ্রিয় পাঠক, আর.বি.আর ব্লগের এই আর্টিকেলে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কোথায় কোথায় হয় -  জন্য মেথি খাওয়ার নিয়ম এবং গ্যাস্ট্রিক দূর করার খাবার সহ গ্যাস্ট্রিক নিরাময়ের সকল তথ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। যেকোনো বিষয়ের সঠিক তথ্য সবার আগে জানতে আর.বি.আর ব্লগের গুগল নিউজে ফলো দিয়ে রাখুন। আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url