চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করার নিয়ম

আসসালামু আলাইকুম, চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করার নিয়োম ও মাথায় খুশকি হওয়ার কারন সম্পর্কে জানতে আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।সঠিক উপায়ে চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন কিভাবে তা জানুন

গোসল করার পর আপনি কিভাবে চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন ও মাথার খুশকি দূর করবেন তা বিস্তারিত জানানোর জন্য আমাদের আর্টিকেলটি তৈরি করা হয়েছে

ভূমিকা

 শীত মৌসুমে মানুষের শরীরে নানান রকম সমস্যা দেখা দেয় বেশি, যার মধ্যে অন্যতম হলো চুল পড়ে যাওয়া ও মাথায় খুশকি হওয়া তবে আপনি যদি শীতকালে সঠিক উপায় মেনে বাসায় ও বাসার বাইরে চলাফেরা করেন তাহলে অবশ্যই আপনার পুরো শরীরে সমস্যা খুব কম দেখা দিবে তার জন্য আমরা এই আর্টিকেল এর মধ্যে চুলের যত্ন কিভাবে নিবেন,

ও মাথার খুশকি কিভাবে দূর করবেন সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সময়মতো গোসল করা শ্যাম্পু ব্যবহার করা চুল আঁচড়ানো সহ চুলের যত্ন নেওয়ার সবকিছু এই আর্টিকেল এর মধ্যে বলা হয়েছে। তাই চুলের যত্ন কিভাবে নিবেনে খুশকি কিভাবে দূর করবেন সেটা জানতে হলে আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। 

শীতকালে চুলের সমস্যা 

শীতকালের চুলের অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, যেমন চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া, খুশকি, মাথা থেকে চুল পড়ে যাওয়া সহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মাথায় চুল কমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা দেয়। 

শীতে চুল পড়ার কারন

শীত মৌসুম আসলেই অনেকের মাথা থেকে চুল পড়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়। যার একটি কারণ হচ্ছে শুষ্ক বাতাস। কেননা ঠান্ডা মৌসুমে শুষ্ক বাতাস মাথায় লাগার জন্য ত্বকের সব আদ্রতা শুষে নেয়। যার ফলে চুল পড়ে যায়। তবে কিছু উপায় মেনে চললে তুলনামূলক চুল অনেক কম পড়ে। 

শীতে চুল পড়ার প্রতিকার 

অল্প কিছু সংখ্যক নিয়ম মেনে চললে শীতে চুল পড়ার প্রবণতা অনেক কমে যাবে। যেমন, শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে সঠিক নিয়মে , চুল আঁচড়াতে হবে, বাইরে বের হলে চুল ঢেকে রাখতে হবে যাতে বাইরে শুষ্ক হাওয়া চুলে না লাগে। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন চুলে তেল ব্যবহার করতে হবে।

চুলে সঠিক উপায়ে শ্যাম্পু ব্যাবহার করা 

চুল পরিষ্কার করার জন্য একটি উপায় হচ্ছে শ্যাম্পু ব্যবহার করা। তবে চুলের ধরন বুঝে তারপর শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। অনেকে আছেন যারা গোসল করার সময় চুল না ভিজিয়ে সরাসরি মাথায় শ্যাম্পু দেন, এটা সঠিক নিয়ম নয়। শ্যাম্পু ব্যবহার করার আগে চুল অবশ্যই পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। ভেজা চুলে শ্যাম্পু সবচাইতে ভালো কাজ করে।


শ্যাম্পু ব্যবহার করার সময় চুলের গোড়ার দিক থেকে ব্যবহার করতে হবে। অনেককে মনে করেন প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে চুল বেশি পরিষ্কার থাকে, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা তাতে করে চুলের ক্ষতি আরও অনেক বেশি হতে পারে। সবচাইতে বেশি ভাল হয় প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে দুই থেকে তিন দিন চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করা। 

আর যারা প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহার করেন তাদের জন্য মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করা অনেক ভালো হবে।

চুলে সঠিক উপায়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করা  

চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করা খুব ভালো কাজ, চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে কন্ডিশনার যেন মাথার চামড়ার অংশে না লাগে। কন্ডিশনার চুলে শ্যাম্পুর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে অনেক বা চুলের বর্ম হিসেবে কাজ ও করে। চুল কোমল থাকে ও ঝরঝরে হয়। এমন কি সহজে চুলে কোন প্রকার ময়লা বসতে পারে না।

সঠিক উপায়ে চুল আঁচড়ানো 

অনেকে শীতের সময় চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে চান না। তাদের জন্য চুল পরিষ্কার রাখার আরো অনেকগুলো উপায় রয়েছে যেমন প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে ভালোভাবে চুল আঁচড়ান। গোসল করার সময় মাথায় পর্যাপ্ত পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলা। চুল পরিষ্কার রাখার জন্য অবশ্যই ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে হবে।


কেননা গরম পানি চুলের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর গরম পানি ব্যবহারের ফলে মাথার চুল ও চামড়ার অনেক ক্ষতি হয় তাই অনুগ্রহপূর্ব কেউ গরম পানি ব্যবহার করবেন না। 

বাসার বাইরে চুল ঢেকে বের হওয়া 

শীতের মৌসুমে প্রায় সব সময় আবহাওয়া বেশ রুক্ষ থাকে। কেননা এই সময় শুষ্ক বাতাসে বাইরে ধুলাবালির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। সেজন্য বাসার বাইরে বের হওয়ার আগে মাথায় ওড়না, স্কার্ফ, টুপি ইত্যাদি ব্যবহার করে চুল ঢেকে রাখতে হবে যাতে বাইরে ধুলোবালি চুলে প্রবেশ করতে না পারে।

তবে চুলে ময়লা কম হবে যার ফলে চুল অনেক সুন্দর থাকবে এবং চুল পড়া অনেক অংশে কমে যাবে। 

মাথায় খুশকি হওয়ার কারন

নানা কারণে মাথায় খুশকি হতে পারে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল তৈলাক্ত ত্বক খিটখিটে হওয়া, শীতকালে বাতাসের কারণে ত্বক শুষ্ক হওয়া তাছাড়া ম্যালাসেজিয়া ছত্রাকের কারণেও খুশকি হতে পার। তাছাড়া অতিরিক্ত ময়লা আবার বংশগত কারণেও খুশকি হতে পারে।

মাথার খুশকি দূর করার উপায়

বর্তমান সময়ে যে কোন মানুষ খুশকির সমাধান করতে পারবে ঘরোয়া উপায় কোন প্রকার রাসায়নিক কোন দ্রব্য ব্যবহার করা প্রয়োজন নেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলেই এর সমাধান পাওয়া যাবে। তার জন্য প্রথমে নিমপাতা, রিঠার গুড়া, হামলার গুড়, মিথির গুঁড়া ও পানি একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পানিতে সিদ্ধ করতে হবে।


তারপরে ৪০ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট পর্যন্ত রেখে দিয়ে ঠান্ডা করতে হবে। তারপর এটি ব্যবহার করার উপযোগী হবে, উপাদানগুলো ঠান্ডা ভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং মাথায় দেওয়ার ১৫ মিনিট পর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধীরে ধীরে ধুয়ে ফেলতে হবে কোনরকমে তাড়াহুড়া করা যাবে না।

ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য সপ্তাহে কমপক্ষে তিনবার ব্যবহার করতে হবে তার পাশাপাশি চুলের যত্ন নিলে এবং বাইরে ধুলোবালি থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় অবলম্বন করলে খুশকি দূর হবে।

লেখকের মন্তব্য

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানানোর চেষ্টা করেছি যে শীতকালে কিভাবে আপনি চুলের যত্ন নিবেন ও মাথা থেকে খুশকি দূর করবেন। আশা করি আপনি আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হবেন এবং এটি অন্যদের সাথে শেয়ার করবেন। এ ধরনের শিক্ষনীয় বিষয় জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন এবং আমাদের আর্টিকেলটি সম্পূর্ন দেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url