কাঠ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

আসসালামু আলাইকুম, সুপ্রিয় পাঠক কাঠ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন ও কাঠ বাদাম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
কাঠ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন
আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কাঠবাদাম খাওয়ার উপকারিতা কত। খেলে কি কি উপকার হয়। এবং কোন কোন সমস্যায় আপনি নিয়মিত কাঠ বাদাম খেতে পারেন।

ভূমিকা

আজকে আর্টিকেলে আমরা আপনাকে জানানোর চেষ্টা করেছি যে কাঠবাদাম খাওয়ার ফলে কি উপকার হয় ও অপকার হয়। তার পাশাপাশি আমাদের আর্টিকেল আপনি জানতে পারবেন কাঠ বাদামের আদি নিবাস কোথায়, কাঠবাদাম গাছের বিবরণ সহ সকল তথ্য কোন কোন সমস্যায় আপনি কাঠ বাদাম খেতে পারেন তার বিস্তারিত।

কাঠ বাদাম (বৈজ্ঞানিক নামঃ Terminalia catappa)

কাঠ বাদাম একটি বৃহাকৃতির গাছের ফলের বীজ। বীজের নাম অনুসারে এই গাছকে কাঠ বাদাম গাছ বলা হয়। যা নিরক্ষীয় অঞ্চলে জন্মানো লেডউড পরিবারের একটি বৃক্ষ। কাঠ বাদাম গাছের রসালো ফলের অভ্যন্তরে দীর্ঘ কয়েকটি বিষ থাকে যা পরিপক্ক ফল বের করে সরাসরি খাওয়া যায় আবার ভেজেও খাওয়া যায়।


ভিতর থেকে যে ফল পাওয়া যায় বা যে বিচিগুলো পাওয়া যায় তাকে কাঠ বাদাম বলে। বিচিগুলোতে বাদামের গন্ধ থাকে। ভারতীয় বাদাম নামেও কাঠ বাদামের পরিচিতি সারা বিশ্বে।

কাঠ বাদামের আদি নিবাস

কাঠ বাদাম গাছের আদি নিবাস সম্পর্কে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে। তবে এটি আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সহ অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত উষ্ণ অঞ্চলে জন্মে থাকে। তবে সম্প্রীতি সময়ে আমেরিকা মহাদেশেও কাঠ বাদাম গাছের বিস্তার ঘটেছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে ডাকা হয় কাঠ বাদামকে।


তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নাম হলোঃ বেঙ্গল আখরোট, সিঙ্গাপুর আখরোট, সমুদ্র আখরোট, জানমান্দি, ছাতা গাছ, ন্কাটি, আব্রোফো

কাঠ বাদাম গাছের বিবরণ

কাঠ বাদাম গাছ ১১৫ ফুট বা ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। কাঠ বাদাম গাছের ডালপালা উপর দিক থেকে বের হওয়া শুরু করে। এবং তার ফল রসালো প্রকারের হয়। ভেতরের প্রকোষ্ঠে কয়েকটা বিজ থাকে। পরবর্তীতে ফল পাকলে এই বিচি গুলো খাবারের যোগ্য হয়। গাছের বয়স যত বাড়ে উপরের দিকে ডালপালার তত বিস্তার ঘটে ও চ্যাপ্টা হয়।


যা দেখতে পুরো ফুলদানির মত লাগে। কাঠ বাদাম গাছের শাখা-প্রশাখা গুলো তরে স্তরে সাজানো থাকে। পাতাগুলো দেখতে অনেকটা বড় হয়। প্রতিটা পাতা চকচকে সবুজ বর্ণের হয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে কাঠ বাদাম গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ে। কাঠ বাদাম গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়ার আগে গোলাপি-লাল বা হলদেটে-খয়েরি রং ধারণ করে।

কাঠ বাদাম খাওয়ার উপকারিতা

আপনি নিয়মিত কাঠ বাদাম খাওয়ার ফলে বিভিন্ন রকমের রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কারণ কাঠ বাদাম আমাদের শরীরের জন্য অতি উপকারী একটি খাদ্য। কাঠ বাদামে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। আপনি কাঠ বাদাম যদি খান তাহলে অনেক সমস্যা থেকে নিস্তার পেতে পারেন।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
কাঠ বাদাম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক সাহায্য করে থাকে। কাঠ বাদাম রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখে যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো
কাঠ বাদাম হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কারণ কাঠ বাদামে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলো বিভিন্ন উপায়ে হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে থাকে। যার ফলে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল দূর হয় ও ভালো কোলেস্টেরলর পরিমান বৃদ্ধি করে যা হার্টের জন্য খুব উপকারী।
  • ওজন কমানো
কাঠ বাদাম খাওয়ার ফলে আপনি খুব দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে পারবেন। কেননা কাঠ বাদামে যে চর্বি আছে সেটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। আপনি যদি সঠিক নিয়মে এবং পরিমাণমতো কাঠ বাদাম সেবন করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার দেহের ওজন কমতে শুরু করবে। কেননা কাঠ বাদাম খাওয়ার ফলে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত ক্ষুধা লাগে না।

এর ফলে অল্প খাবার খেয়েই দীর্ঘক্ষণ থাকা যায়। তার ফলে আপনার দেহের অতিরিক্ত ওজন কমতে শুরু করে।
  • স্ট্রোক প্রতিরোধে
স্ট্রোক প্রতিরোধে কাজ বাদামের কোন বিকল্প নেই। স্ট্রোক বিভিন্ন কারণে হতে পারে তবে অনেকের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির কারণে এ সমস্যা হয়। আর কাঠ বাদাম খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এ ধরনের সমস্যা খুব অল্প সময়ে সমাধান করে ফেলা সম্ভব।
  • হজম শক্তি বাড়াতে
কাঠ বাদাম খাওয়ার ফলে হজম শক্তি বেড়ে যায়। যাদের হজমে সমস্যা রয়েছে তারা কাঠবাদাম খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করণে
বর্তমান সময়ে অনেক মানুষের কোষ্ঠকাঠিন্য জনিত সমস্যা রয়েছে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত কাঠ বাদাম খেতে পারেন এতে করে সমস্যা দূর হবে। কেননা কাঠ বাদামে প্রচুর পরিমাণে আঁশ আছে যা খাবার হজম করতে সাহায্য করে।
  • হাড় মজবুত করা
কাঠ বাদাম নিয়মিত সেবন করলে আপনার হাড় মজবুত হবে পাশাপাশি দাঁতের গোড়া শক্ত হবে। কারণ কাঠ বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস আছে যা দাঁত মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে
প্রচুর পরিমাণে আঁশ আছে কাঠ বাদামে। যা আপনার শরীরের ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই ক্যান্সার থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য নিয়মিতভাবে কাঠ বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করুন।
  • স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করা
কাঠ বাদাম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ও মিনারেলস আছে। যা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে। নিয়মিত ৪ থেকে ৫ টি কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খাওয়ার ফলে মস্তিষ্কের অনেক উন্নতি হয়।
  • শরীরে কোষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা
আপনার শরীরে যতগুলো কোষ রয়েছে তাদের কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে কাঠ বাদাম। কারণ কাঠ বাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি আছে। যা শরীরের প্রতিটি কোনায় জড়িয়ে থাকা কোষের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তোলে যা শরীরের ক্ষত সৃষ্টিতে বাধা প্রদান করে।
  • ত্বক উজ্জ্বল করতে
কাঠ বাদাম ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে থাকে। কারণ এর তেলে রয়েছে ভিটামিন-ই যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। তার পাশাপাশি সূর্যের ক্ষতিকর বেগুনের রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করতে সাহায্য করে থাকে।
  • মেকআপ অপসারনে
কাঠ বাদামের তেল মেকআপ অপসারণ করতে সাহায্য করে। তুলা অথবা একটি টিস্যুতে বাদামের তেল ব্যবহার করে ত্বক পরিষ্কার করলে খুব সহজেই মেকআপ অপসারণ করা সম্ভব। পাশাপাশি তবে কোন প্রকার দাগ পড়বে না।
  • চোখের উপকার
কাঠ বাদামের তেল চোখের নিচের দাগ দূর করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তবে তেল ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে চোখের ভিতর না পড়ে। কেননা চোখের ভিতরে যদি যায় তাতে করে চোখের নার্ভ নষ্ট হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
  • চুলে ব্যবহার
কাঠ বাদামের তেল চুলার রুক্ষ ভাব ও চুল পরা দূর করতে ব্যবহার করা হয়। কাঠ বাদামের তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ডি যা চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে ও চুল সুন্দর রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি চুলের গোড়া মজবুত ও চুল আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে যাদের চুল কোঁকড়ানো তারা নিজেদের চুল সোজা করতে কাঠ বাদামের তেল নিয়মিতভাবে ব্যবহার করতে পারেন। কারণ তেলে ভিটামিন ই আছে। যা কোঁকড়ানো চুল সোজা করতে সাহায্য করে।
  • জ্বর ও ব্যথা কমাতে
কাঠ বাদামের তেল জ্বর কমাতে সাহায্য করে। এই তেল দিয়ে যদি শরীর মালিশ করা হয় তবে শরীরে তাপমাত্রা খুব দ্রুত কোভিদ যায়। পাশাপাশি শরীরে যেকোনো ব্যথার জন্য তেল মালিশ করা যেতে পারে। খুব অল্প সময়ে ব্যথা নিরসন করা সম্ভব।

কাঠ বাদাম খাওয়ার অপকারিতা

প্রতিটা খাদ্যের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিদ্যমান। তার জন্য আপনি যে খাবার খান না কেন সেটা পরিমাণ মতো খেতে হবে। তাছাড়া শরীরের পক্ষে উপকারের চেয়ে অপকার বেশি হবে। তাই কাঠ বাদাম পরিমাণ মতো এবং নিয়মিত সেবন করুন। তবে আপনি সমস্যা থেকে দ্রুত সমাধান পেয়ে যাবেন। যদি নিয়মিত কাঠ বাদাম না খান তাহলে কোনরকম সমস্যার সমাধান হবে না।


আপনার সমস্যা সমাধান পাওয়ার জন্য কাঠ বাদাম নিয়মিত ও পরিমান মত খান। তাতে করেই আপনার সমস্যা দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

শেষ কথা

কাঠ বাদাম খাওয়ার ফলে কি কি উপকার হয় ও আপনি কোন কোন সমস্যায় কাঠ বাদাম খেতে পারেন তার বিস্তারিত। সুতরাং আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে এটি অবশ্যই অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। এ ধরনের শিক্ষনীয় বিষয় জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের সাথেই থাকুন। আমাদের আর্টিকেল সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url