খাঁটি মধু চেনার উপায় সমূহ

কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানুনআসসালামু আলাইকুম, সুপ্রিয় পাঠক খাঁটি মধু চেনার উপায় সমূহ ও মধু খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।খাঁটি মধু চেনার উপায় সমূহ কি তা জানুন
কেননা এই আর্টিকেলে আমরা জানানোর চেষ্টা করেছি যে আপনি কি ভাবে খাঁটি মধু চিনতে পারবেন ও অতিরিক্ত মধু সেবন করলে আপনার কি কি সমস্যা হবে। পাশাপাশি আপনার দেহের কোন কোন সমস্যায় আপনি মধু সেবন করতে পারবেন।
সূচিপত্র: খাঁটি মধু চেনার উপায় সমূহ

উপস্থাপনা

মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশেষ নেয়ামত হলো মধু। যা খাওয়ার ফলে দেহের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় খুব দ্রুত। তবে মধু খাওয়ার পূর্বে খাঁটি মধু কিনা সেটা বুঝতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত মধু সেবন করলে আপনার শরীরের অনেক সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাবেন। সেজন্য দেহের কোন কোন সমস্যায় আপনি মধু সেবন করবেন সেই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই আর্টিকেলে।

খাঁটি মধু চেনার উপায় সমূহ

প্রায় ৪৫ টি খাদ্য উপাদান নিয়ে মধু তৈরি হয়। খাঁটি মধু চেনার সহজ উপায় হল তা পানির গ্লাসে ছেড়ে দিলে সরাসরি ড্রপ অবস্থায় গ্লাসের নিচে চলে যাবে। তাছাড়াও ব্লটিং পেপারের মাধ্যমে খাঁটি মধু চেনা যায়, কেননা ভেজালযুক্ত মধু ব্লটিং পেপার কে অনেকটা আদ্র করে তোলে খাঁটি মধু আর্দ্র করে না। তাছাড়াও খাঁটি মধু বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়।

মধু খাওয়ার উপকারিতা

দেহে শক্তি উৎপাদনকারী প্রধান খাদ্য হলো মধু। শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য দেহে তাপ শক্তি যুগায় হলো মধু। কারণ মধুতে যে উপাদান থাকে তা সহজে হজম হয়, এবং খুব অল্প সময়ে রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিক কাজ শুরু করে যার ফলে দেহে কোন রকমের রোগ বালাই প্রবেশ করতে পারে না। ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার প্রধান খাবার মধু। প্রতিদিন ভোরবেলা এক চামচ মধু পান করলে দেহে কষ্ঠবদ্ধতা থাকে না।

মধু খাওয়ার ফলে হাঁপানি এবং ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ছাড়াও শ্বাসকষ্ট দূর হয়। অনিদ্রার ভালো ওষুধ হলো মধু, প্রতিরাতে ঘুমানোর আগে ২ চা চামচ মধু একগ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে খেলে ঘুম অনেক ভালো হয়। তাছাড়া যৌন দুর্বলতা দূর করার সঠিক খাবার হল মধু। এছাড়াও তারুন্য বজায় রাখার জন্য মধু খাওয়া আবশ্যক। তাছাড়া মধুতে প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট আছে যা ত্বকের রং ও ত্বককে অনেক সুন্দর রাখে।
ত্বক কে ভাঁজ পড়া বা বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে যাতে শরীরের সামগ্রিক শক্তি পাওয়া যা। তাছাড়া মধু দাঁতের জন্য ব্যবহার করলে অনেক ভালো কাজ করে, দাঁতে পাথর জমাট বাধা রোধ করে এবং মধু খেলে দাঁতের গোড়া অনেক শক্তিশালী হয়। এছাড়াও মধু পাকস্থলীর কাজকে অনেক শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলে এবং হজমে গোলমাল দূর করে, যার ফলে বুক জ্বালা করা অরুচি হওয়া বমি বমি ভাব দূর হয়।

এরপর শীতে শরীর গরম রাখতে মধু খাওয়া আবশ্যক ২ চা চামচ মধু এক কাপ ফুটানো পানির সঙ্গে খেলে শরীর অনেক গরম ঝরঝরা ও তাজা হয় যার ফলে রোগ বালাই দেহে প্রবেশ করতে পারে না। ডায়রিয়া দূর করার জন্য মধু খাওয়া আবশ্যক, কেননা পানির সাথে মধু মিশিয়ে খেলে দেহে পানি শূন্যতা রোধ করা যায় যার ফলে মানুষ অসুস্থ কম হয়। দেহের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য মধু খাওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে ছয় মাস বয়সের শিশুদের প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ফোটা মধু খাওয়ানো উচিত এতে করে তাদের বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ ও দেহে সুস্থতা দেখা যাবে।

মধু খাওয়ার অপকারিতা

প্রতিটা খাবারের ই উপকারিতা এবং অপকারিতা বিদ্যমান। কেননা পরিমাণের চেয়ে বেশি খেলে উপকারের চেয়ে সমস্যা বেশি দেখা দিবে, তাই সব কিছু পরিমাণ মত খেতে হবে তাহলে কোন সমস্যা দেখা দিবে না। তবে খাওয়ার আগে দেখতে হবে যে মধু আসল বা নকল কিনা, কেননা আসল বা নকল মধু চিনতে না পারলে দেহের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে।

মধুতে দানাদার সমস্যা

কোন কারণবশত যদি মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায় তখন খুব অল্প সময়ে মধু দানাদার হয়। তবে সরিষা ফুলের মধুতে সমস্যা বেশি দেখা দেয়। আবার মধুতে ধুলা বালি বুদবুদ ও পোলেন দেখা দিলে মধু দানাদার হয়। সাধারণত ১২ থেকে ১৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মধু জমাট বাঁধতে পারে, তবে পানির পরিমাণ বেশি থাকলে মধুকে দানাদার হতে ত্বরান্বিত করে।

তবে দানাদার মধুও খাওয়া যাবে তাতে কোন সমস্যা হবে না। দানাদার মধুকে হালকা একটু তাপ প্রয়োগ করলে মধু আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যে দানাদার মধু ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে ব্যবহার করা উত্তম।

মধু সংরক্ষণ করার উপায়

আমরা আমাদের রান্নাঘরে চাল-ডাল মসলা জাতীয় জিনিস যেভাবে সংরক্ষণ করি সেভাবে মধু সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব। তাতে করে মধুর গুণগতমান বজায় থাকে, মধু আমাদের জীবনের একটি প্রয়োজনীয় উপকরণ, মধু অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা হয় তাই এটি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা প্রয়োজন যাতে করে একটি যেন নষ্ট না হয়। মধু সংরক্ষণ করে রাখার জন্য আমাদের সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হল প্লাস্টিকের দ্রব্যের বদলে কাঁচের পাত্র বেছে নিতে হবে। কাঁচের জারে মধুর রং এবং স্বাদ সব ঠিক থাকে তার পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাবত সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
ভুলেও কখনো প্লাস্টিকের দ্রব্যে মধু সংরক্ষণ করবেন না। তাতে মধুর গুণগতমান নষ্ট হয় এবং তা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার ভুলেও কখনো সূর্যের আলোতে মধু রাখবেন না, তাতে করে তার গুনাগুন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ঠান্ডা জায়গায় রেখে মধু সংরক্ষণ করতে হবে। মধু রাখার পাত্রে কখনো নোংরা বা ভেজা চামচ ঢুকাবেন না। আদ্রতার কারণে মধু নষ্ট হয়ে যেতে পারে যা দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর। মধু দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য শুকনো চামচ ব্যবহার করতে হবে তাহলে কমপক্ষে ছয় মাস মধু ভালো থাকবে।

মধু খাওয়ার নিয়ম

মধু অবশ্যই নিয়ম মেনে খেতে হবে, কেননা প্রত্যেকটা মানুষের শরীর একরকম নয়। গঠনের পার্থক্য রয়েছে বয়সের পার্থক্য রয়েছে সেসব দেখে খেতে হবে। তবে গ্রীষ্মকালের চাইতে শীতকালে একটু বেশি পরিমাণে খাওয়া যায় মধু। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ দিনে ৩ থেকে ৪ চা চামচ মধু খেতে পারে। ছোট শিশু যাদের বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে তাদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ চা চামচ খাওয়া প্রয়োজন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মধু খাওয়ার সঠিক সময়।

শেষ কথা

সুপ্রিয় পাঠক, আর.বি.আর ব্লগের এই আর্টিকেলে খাঁটি মধু চেনার উপায় ও মধু খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। যেকোনো শিক্ষনীয় বিষয় জানতে আর.বি.আর ব্লগের গুগল নিউজে ফলো দিয়ে রাখুন। আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url